Propagation of the Sunni faith in Islam

মাযার সম্পর্কিত প্রশ্নোত্তর ও বিতর্কের নিরসন (১ম পর্ব) – (Masum Billah Sunny)

প্রশ্নোত্তরের ২য় পর্বের লিংক:
http://goo.gl/tXqd4f

ওহাবী আহলে হাদিসরা এই জাতীয় কিছু হাদীসকে মাযার বিরোধী বলে অপপ্রচার চালাচ্ছে।দেখুন এর প্রকৃত ব্যাখ্যা:-

♦Problem 1 :-

প্রখ্যাত তাবেয়ী আবুল হাইয়্যাজ আল আসাদী বলেন, আমাকে আলী (রাঃ) বললেনঃ

أَلاَّ أَبْعَثُكَ عَلَى مَا بَعَثَنِى عَلَيْهِ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَنْ لاَ تَدَعَ تِمْثَالاً إِلاَّ طَمَسْتَهُ وَلاَ قَبْرًا مُشْرِفًا إِلاَّ سَوَّيْتَ“

তোমাকে কি আমি এমন একটি কাজ দিয়ে পাঠাবো না যে কাজ দিয়ে আমাকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পাঠিয়েছিলেন? তা হল কোন (মুশরিকদের) প্রতিকৃতি ও মূর্তি পেলে তাকে চূর্ণ বিচূর্ণ করে ফেলবে, আর (মুশরিকদের কোন) উঁচু কবর দেখলে তা সমান করে দেবে।
” (মুসলিম).

♦ Sollution 1 :-

ব্যাখ্যা 1 :-
এগুলো কাফিরদের- মুশরিকদের কবর ছিল বুখারী শরীফের শ্রেষ্ঠ ব্যাখ্যাকার হাফিজুল হাদিস ইমাম হাজর আসকালানী (রহ) বলেন,”‘
নবীগনও তাদের অনুসারীগনের কবর বাদ দিয়ে মুশরিকদের কবরগুলোকে ধ্বংশ করা হয়েছিল। কেন্না এগুলো উপরে ফেলার কারন ছিল নবীজী (সা) এর মানহানী করত।
Reference :
শরহে বুখারী ফতহুল বারী ২ খন্ড ২৬ পৃষ্টা।

তাই এই হাদিস ইমানদার সাধারন মুসলমানের জন্যও ব্যবহার করা যাবে না ওলীগনের ক্ষেত্রে তো Impossible!!!

কারন ইবনে ঊমর(রা) বলেন,” খারিজি সম্প্রদায় এর এমন স্বভাব ছিল যে তারা কাফির মুশরিকদের উপর অবতীর্ন আয়াত ইমানদার দের উপর প্রয়োগ করত।তাই তারা আল্লাহর সৃষ্টির মধ্যে নিকৃষ্টতম জাতি বলে মনে করতেন।
Reference :-
বুখারী শরীফ

ব্যাখ্যা 2 :-

♦ হযরত আলী (রা) সম্ভবত তাঁর শাসনামলে, ৩৫ থেকে ৪০ হিজরির মধ্যে তাঁর সেনাপতিকে ওই আদেশ দিয়েছিলেন। নিচে এর মতই আরেকটা হাদিস পাওয়া যায় যেখানে রাসুল(সা) মসজিদ নির্মানের জন্য কাফির মুশরিকদের মুর্তি ও কবর এর উপরের স্থাপত্য সব ভেংগে সমান করে দিয়েছিলেন। হাদিসটি নিম্নরূপ *****

♦মূসাদ্দাদ (রহঃ) আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মদিনায় পৌঁছে,………. তিনি মসজিদ তৈরী করার নির্দেশ দেন……… আনাস (রাঃ) বলেন: আমি তোমাদের বলছি, এখানে মুশরিকদের কবর এবং ভগ্নাবশেষ (স্থাপত্য বা নিদর্শন বা মুর্তি) ছিল। আর ছিল খেজুরের গাছ। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (এগুলো ভেংগে দেয়ার) নির্দেশ দিলে (এগুলো ভেংগে) মুশরিকদের কবর খুড়ে ফেলা হল। তারপর (মুশরিকদের স্থাপত্য/নিদর্শন/মুর্তি) ভগ্নাবশেষ যা ছিল সমতল করে দেয়া হল, খেজুরের গাছ গুলো কেটে ফেলা হল এর দুই পাশে পাথর বসানো হল (মসজিদ নির্মানের জন্য)।
Reference :-
(সহীহ বুখারী ৪১৬ (৪২০) এবং সহীহ মুসলিম ১০৬৮)

এবার দেখুন এই হাদিসের আদেশের সাথে হযরত আলী (রা) এর শ্রবণকৃত নবীজি (সা) এর আদেশের কথা মিলে যাচ্ছে। এই আদেশের কথাই হযরত আলী (রা) তাঁর সেনাপতিকে অবহিত করেছিলেন। অন্য কোন সময়ের এরকম কোন আদেশের কথা কোথাও নেই। ফলে ইমামগণ, মুফাসসিরিনে কেরাম এবং মুজতাহিদগণ একমত ছিলেন যে হযরত আলী (রা) এর হাদিসটি!!

Problem 2 :-

♦ জাবির (রাঃ) হতে র্বণিত; তিনি বলেন : রাসূলুল্লাহ (সঃ) কবর চুনকাম ও পাকা করতে, কবরের উপর বসতে এবং কবরের উপর গুম্বুজ তৈরী করতে নিষেধ করেছেন। (মুসলিম ১ম খন্ড ৩১২ পৃঃ, আবূ দুউদ ২য় খন্ড ৪৬০পৃঃ)

Solution 2 :-

ব্যাখ্যা ১ :-

♦ হযরত হাসান আল-বসরী (রহ:), ইমাম শাফেঈ (রহ:) ও ইমাম হাকিম (রহ:)-এর মতো সর্বোচ্চ পর্যায়ের মেধাসম্পন্ন মোহাদ্দেসীনবৃন্দ এই সব হাদীসকে আক্ষরিক অর্থে গ্রহণ করেননি।

’কবরে আস্তর না করা, না লেখা বা বসা’ সংক্রান্ত হাদীসটি বর্ণনার পরে ইমাম তিরমিযী (রহ:) বলেন:

এই হাদীসটি হাসান সহীহ এবং এটি বিভিন্ন সনদ বা সূত্রে হযরত জাবের (রা:) হতে বর্ণিত হয়েছে। কিছু উলেমা (কাদা) মাটি দ্বারা কবর আস্তর করার অনুমতি দিয়েছেন; এঁদের মধ্যে রয়েছেন ইমাম হাসান আল-বসরী (আমীরুল মো’মেনেীন ফীল্ হাদীস)। অধিকন্তু, ইমাম শাফেঈ (রহ:) কাদামাটি দ্বারা কবর আস্তর করাতে কোনো ক্ষতি দেখতে পাননি।
— সুনানে তিরমিযী, কবর আস্তর না করার হাদীস ,১০৫২

ওনাদের কাউকে ছোট করার স্পর্ধা আছে এমন কোন মুসলিম থাকতে পারে না।তাই চোখ বন্ধ করে ওনাদের বিশ্বাস করতে পারেন কারন তারা এই হাদিসটি জানতেন না এমন ধারনা করা মুর্খতা হবে।

ব্যাখ্যা ২ :-

♦ ইমাম মালেক (রহ:) নিম্নবর্ণিত শিরোনামে গোটা একখানা অধ্যায় বরাদ্দ করেছেন:
”জানাযার জন্যে থামা এবং কবরস্থানের পাশে বসা” – উক্ত অধ্যায়ে বর্ণিত দ্বিতীয় রওয়ায়াতে বিবৃত হয়:

এয়াহইয়া (রা:) আমার (ইমাম মালেকের) কাছে বর্ণনা করেন মালেক (রা:) হতে, যিনি শুনেছিলেন এই মর্মে যে, হযরত আলী ইবনে আবি তালেব (ক:) কবরে মাথা রেখে পাশে শুয়ে থাকতেন। মালেক (রা:) বলেন, ‘আমরা যা দেখেছি, কবরের ধারে পেশাব-মলত্যাগ করার ক্ষেত্রেই কেবল নিষেধ করা হয়েছে’।
— মুওয়াত্তা-এ-ইমাম মালেক, ১৬তম বই, অধ্যায় ১১, হাদীস ৩৪

মনে রাখা জরুরি, অনেক ইসলামী পণ্ডিতের মতে বোখারী শরীফ হতে ইমাম মালেক (রহ:)-এর ’মুওয়াত্তা’ গ্রন্থটি অধিক উচ্চতর ও বিশুদ্ধ।

Problem 3 :-

আব্দুল্লাহ ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতে র্বণিত;
তিনি বলেছেন : রাসূল (সঃ) কবর যিয়ারাতকারিনী মহিলাদেরকে এবং যারা কবরকে মাসজিদে পরিনত করে (র্অথাৎ কবরে যারা সালাত পড়ে) আর যারা কবরে বাতি জ্বালায় তাদেরকে লা’নত করেছেন। (তিরমিযী, আবূ দাউদ ২য় খন্ড ৪৬১ পৃঃ, নাসায়ি, ইবনু মাজাহ)
আরেকটা :-
“”জেনে রাখা উচিৎ যে, তোমাদের পূর্বের লোকেরা তাদের নবীদের কবরসমূহকে মাসজিদে পরিণত করত। সাবধান! তোমরা কবরগুলোকে মাসজিদে পরিণত কর না। আমি তোমাদেরকে তা থেকে নিষেধ করছি।””
(মুসলিম)

Solution 3 :-

২টা হাদিসে সর্বমোট ৩ টি কথা এসেছে :

১) কবর যিয়ারাতকারিনী মহিলাদেরকে লানত
২) পুর্বে (কাফির-মুশরিক) যারা কবরকে মাসজিদে (অর্থ : সিজদার স্থানে) পরিনত করেছে তাদের লানত
৩) আর যারা কবরে বাতি জ্বালায় তাদেরকে লা’নত করেছেন।

ব্যাখ্যা 1 :-

♣ কবর যিয়ারাতকারিনী মহিলাদেরকে লানত : এর বিশাল ব্যাখ্যা:

১) উক্ত হাদিসে বলা হয়েছে আগে নিষেধ করতাম (ওহীর আদেশ পাওয়ার আগে) কিন্তু ওহীর আদেশ পেয়ে তিনি এই নিষেধ তুলে নিলেন (তখন স্বাভাবিক নিয়মে কিছু নিষেধ করা হাদিস রহিত হয়ে গেল)
২) এই হাদিসে কবর জিয়ারত করার আদেশ দিয়েছেন কিন্তু মহিলাদের এখানে কোন নিষেধও করেন নি।এই আদেশ পুরুষ মহিলা সবার জন্যই।

সুনানে ইবনে মা’জাতে ইবনে মাসউদের ভাষায়:-

اِنَّ رَسُولَ الله (ص) قال : کُنتُ نَهَيتُکُم عَن زيارة القُبورَ فَزُوُروها فَا نَّها تُزَهِّدُ في الدّتيا و تُذَ کِّرُ فِي الآخِرَة

নিশ্চয়ই রাসূনুল্লাহ (সাঃ) বলেন :- আমি (ইতিপূর্বে ) তোমাদেরকে কবর যিয়ারতে নিষেধ করেছিলাম, এখন এগুলোর যিয়ারতে যাও। কারণ কবর যিয়ারত, পৃথিবীতে সংয়ম ও আখারাতের স্মরণ আনয়ন করে।

Reference :
♦সহী মুসলিম, হাদীস ৯৭৭,
♦সুনানে নাসাঈ, খঃ৪ পৃঃ৮৯,
♦সূনানে ইবনে মা’জা খঃ১ পৃঃ৫০০-৫০১,
♦সুনানে তিরমিযি খঃ৪ পৃঃ২৭৪,
♦সুনানে আবি দাউদ, হাদীস ৩২৩৫,
♦মোয়াত্তা মালিক খঃ২ পৃঃ৪৮৫]

★ এখানে মুলত ওইসমস্ত নারীদের কথা বলা হয়েছে যারা বেপর্দা হয়ে কবর জিয়ারত করেন ও খুব ঘন ঘন বেপর্দা হয়ে জিয়ারত করতে যায়। আর যদি এই হাদিস দিয়ে সকল কবর জিয়ারতকারী সকল নারীদেরকে বুঝাত তাহলে হযরত মা ফাতেমা (আ) ও উম্মুল মুমেনিন হযরত আয়েশা (রা) নিজে রাসুল (সা) এর রওজা ও অনেকের মাযার জিয়ারত করেছেন।

A) রাসূল (সাঃ)-এর কবরের সর্বপ্রথম বিয়ারতকারী ছিলেন হযরত মা ফাতেমা (আ) :-

ইবনে জাওযী নিজ সনদে আলী (আঃ) থেকে বর্ণনা করেছেন যে বলেনঃ যখন রাসূল (সাঃ)-কে সমাহিত করা হলো তখন হযরত ফাতেমা (ছাঃ) কবরের নিকট আসলেন ; কিছু সময় দাঁড়ালেন, অতঃপর এক মুষ্ঠি মাটি কবর থেকে তুলে নিলেন ও চোখে মাখলেন এবং নিম্নলিখিত পংক্তিগুলো পাঠ করলেন।

ما ذا عَلي مَن شَمَّ تُر بَةً اَحمَدٍ أن لا يَثُمَّ مَدَي الزَّمانِ غَواالياً صُبَّت عَلَيَّ مَصَائِبٌ لو اَنَّها صُبَّت عَلَي اَلأ يّام عُزنَ لَيا لِيًا

“ আহমাদের মাটির সুগন্ধ যে করেছে আঘ্রান কি-এমন দুঃখ তার যদি দু’জাহানের সুগন্ধ না হয় আস্বাদন আমার উপর এসেছে যে মুসিবাত যদি দিবসের উপর আসতো তবে তা হয়ে যেত রাত!”
Reference :
♦ ইবনে জাওযী উক্ত হাদিসটি বর্ননা করেন।

B) মা ফাতেমা (আ) রাসুল (সা) এর চাচা হযরত আমির হামজা (রা) এর মাযার প্রতি শুক্রবারে জুমার দিন জিয়ারত করতেন। (সেজন্য ওনি মদীনা থেকে ৩ মাইল দুরে অবস্থিত ওহুদের প্রন্তরে যেতেন)
Reference :-
♦ ইমাম বায়হাকী (রহ) : আস-সুনুনুল কুবরা : ৪র্থ খন্ড, পৃষ্ঠা ৭৮,
হাদিস ৪৯৯৯।
♦ ইমাম বদরুদ্দিন আইনী (রহ) : শরহে বুখারী গ্রন্থে

C) উম্মুল মুমেনিন হযরত আয়েশা সিদ্দিকা (রা) মক্কায় অবস্থিত তাঁর ভাই হযরত আব্দুর রাহমান বিন আবু বকর (রা) এর কবরের উপর গম্বুজ নির্মাণ করেন এবং ওনার কবর জিয়ারত করতে মদীনা থেকে ৫০০ কিলোমিটার দুরে মক্কায় যেতেন। ৫৮ হিজরি উম্মুল মুমেনিন হযরত আয়েশা (রা) এর ওফাতের আগ পর্যন্ত এই আমল ছিল।

Reference :-
♦ মুস্তাদরেকে হাকিম ১ ম খন্ড, পৃষ্টা ৫৩২,হা: ১৩৯৪
♦ মুন্তাকা সরহে মুয়াত্তায়ে ইমাম মালেক
♦ বাদায়ে সানায়ে

D) উম্মল মুমেনিন হযরত সাইয়্যেদাহ আয়েশা (রা:) বর্ণনা করেন:

যে ঘরে মহানবী (দ:) ও আমার পিতা (আবূ বকর – রা:)-কে দাফন করা হয়, সেখানে যখন-ই আমি প্রবেশ করেছি, তখন আমার মাথা থেকে পর্দা সরিয়ে ফেলেছি এই ভেবে যে আমি যাঁদের যেয়ারতে এসেছি তাঁদের একজন আমার পিতা ও অপরজন আমার স্বামী। কিন্তু আল্লাহর নামে শপথ! যখন হযরত উমর ফারূক (রা:) ওই ঘরে দাফন হলেন, তখন থেকে আমি আর কখনোই ওখানে পর্দা না করে প্রবেশ করি নি; আমি হযরত উমর (রা:)-এর প্রতি লজ্জার কারণেই এ রকম করতাম।
Reference :-
♦ মুসনাদে আহমদ ইবনে হাম্বল, ৬ষ্ঠ খণ্ড, ২০২ পৃষ্ঠা, হাদীসঃ ২৫৭০১
♦ আল-বাছায়ের ৭৯
♦ ইমাম নূরুদ্দীন হায়তামী (রহ:) এই হাদীসটি সম্পর্কে বলেন:

এটি ইমাম আহমদ (রহ:) কর্তৃক বর্ণিত এবং এর বর্ণনাকারীরা সবাই সহীহ মানব।
— মজমাউয্ যাওয়াইদ, ৯:৪০, হাদীসঃ১২৭০৪

♦ ইমাম আল-হাকিম (রহ:) এটি বর্ণনা করার পর বলেন,

এই হাদীস বোখারী ও মুসলিমের শর্ত অনুযায়ী সহীহ।
— মোস্তাদরাক আল-হাকিম, হাদীসঃ ৪৪৫৮

♦ নাসিরুদ্দীন আলবানী আল-মোবতাদি আল-মাশহুর (কুখ্যাত বেদআতী) এই হাদীসকে মেশকাতুল মাসাবিহ গ্রন্থের ওপর নিজ ব্যাখ্যামূলক ‘তাখরিজ’পুস্তকে সমর্থন করেছে (# ১৭১২)।

E) মাতা আমেনা (রা) নিজে শিশু মুহাম্মদ(সা) কে নিয়ে হযরত আব্দুল্লাহ (রা) এর মাযার জিয়ারত করেন।সে সময়
মাতা আমেনা(রা) এর হৃদয় বিদারক বানীটি ছিল :-

হে আব্দুল্লাহ! দেখ তোমার ঔরসে কি মহারত্ন জন্মগ্রহণ করেছে।এই সে তোমার একমাত্র পুত্র তোমার সাক্ষাতে এসেছে।”

★★ ২) যারা নবীগনের কবরকে মাসজিদে বা সিজদাস্তানে পরিনত করেছে তাদের লানত:-

★ ব্যাখ্যা 2 :-

♦এই হাদিস ইহুদী সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে বর্নিত হয়েছিল:-
কারন তারা তাদের নবীদের কবরকে “”কিবলা/কাবা”” মনে করে নিয়ত করত ও সিজদার স্থানে পরিনত করেছিল।ইহুদীরা ওই সমস্ত পবিত্র নবীগনের ইবাদত করত এই ভেবে যে তারা খুশি হয়ে আল্লাহর কাছে তাদের ব্যপারে সুপারিশ করবে। তাই সকল কারনে তাদের উপর লানত করেছেন এবং মুসলমানদের এইসব শিরিক করা থেকে সতর্ক করেছেন।

২) আবার, মসজিদ মানে সিজদার স্থান তাই কবরের উপর ইবাদতের উদ্দেশ্যে সিজদা করা বা নামায পড়া যাবে না শরীয়তে নিষিদ্ধ। কিন্তু মাযার সংলগ্ন মসজিদ হলে কোন সমস্যা নেই তা ১০০% জায়েয।

★★ আর যারা কবরে বাতি জ্বালায় :-

ব্যাখ্যা 3 :-

ইসলাম কখনো অপচয়কে মেনে নেয় নি।তাই যদি কেউ এই উদ্দেশ্যে বাতি জালায় যে,””

১) এই নিয়তে যদি বাতি জ্বালায় যে রাতের অন্ধকারে রাস্তায় হেটে যাওয়া পথ চারীর সুবিধা হবে।

২) মাযারে কুরআন তেলাওয়াত ও জিকির হবে তাই তাদের সুবিধার্থে।

৩) কাউকে সতর্ক জন্য যেন সে দেখা মাত্র দুর থেকে বুঝতে পারে যে এখানে আল্লাহর ওলী শায়ীত আছেন যেন সে দুর থেকে দেখেই সতর্ক হয়ে যায় তখন সে মাযারের সাথে বিয়াদ্দবি করবে না। এসব কারন হলে জায়েয অথবা অন্য যেকোন নেক নিয়তে জায়েয। কিন্তু দিনের বেলা অপচয় করা জায়েয নহে।

Facebook এ আমি :-
http://goo.gl/Stkd1o

Advertisements

One response

  1. অচেনা পথিক

    ধন্যবাদ

    Like

    03/01/2015; 10:12 পুর্বাহ্ন এ

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s